ঠাকুরগাঁওয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, গুরুত্বর জখম, ভয়ভীতি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনসহ ৪০ জন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে মো: রিপন ওরফে বাবু (২৯) নামে এক শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। রিপন শহরের হাজীপাড়া এলাকার মো: রমজান আলীর ছেলে।
তবে মামলার বাদী কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন তা বলতে রাজী হননি।
মামলার এজাহারে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর, সদর উপজেলা বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বনি আমিন, আকচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন।
যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান পুলক, সুব্রত সরকার বুচু, শহীদ বাবু, যুবলীগ নেতা নেংড়া সোহেল, ছাত্রলীগ নেতা জিএম নিয়াজি, রয়েল বড়ুয়া, নিউমুন, ওসমান গনি, আশ্রমপাড়ার খালিদ সিরাজ রকি, রোড এলাকার হিমেল, মুন্সি পাড়ার শাহাজাহান জনি, কলেজ পাড়ার হোয়াইট রকি, হলপাড়ার সুমন সরকার, সরকার পাড়ার সোরভ, মাদারগঞ্জ এলাকার রাজা, মুসলিমনগর এলাকার মামুন, গোয়ালপাড়ার সোরভ, মুন্সিপাড়ার নেংড়া সাদ্দাম, জগন্নাথপুর এলাকার রিক, মো: দাউদ, আশ্রয় পাড়ার রকি বিহারী, শান্তিনগর এলাকার পারভেজ, আশ্রয় পাড়ার আমির হোসেন ওরফে চান্ডাল রুবেল, পূর্ব গোয়াল পাড়ার মাহাবুব, গোয়াল পাড়ার রাজু, সরকার পাড়ার আশিকুর রহমান গুড্ডু, শাহা পাড়ার মো: লিমন, শান্তিনগর এলাকার কনক রায়, মুন্সি পাড়ার মাহাবুব, সরকার পাড়ার রাব্বি, আবির হোসেন রকি, বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের তোফাজ্জল মাস্টার ও আর্দশ কলোনির মাহাবুব।
এরইমধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনকে গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে ছাত্র আন্দোলনে বিষ্ফোরক ব্যবহারসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমানোর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রদানের অভিযোগে বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে কারাগারে পাঠান ঠাকুরগাঁও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
এব্যাপারে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) উত্তম প্রসাদ পাঠক এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এজাহারে বর্ণিত ঘটনার বিষয়ে পুলিশী তদন্ত চলছে। মামলার প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চলছে।







