জাহাঙ্গীর হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুরের নকলায় যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় সাজেদা খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে।
৬ জানুয়ারি শনিবার সকালে উরফা ইউনিয়নের খিচা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাজেদার স্বামী হামিদুল ইসলাম (২২). শ্বশুর জমির উদ্দিন (৫০) এবং শ্বাশুড়ি হামিদা খাতুনকে (৪৫) আটক করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায় বছর দু’য়েক আগে নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের কৈয়াকুড়ি নামাপাড়া গ্রামের দিনমজুর সাজু মিয়ার (৪৫) মেয়ে সাজেদার বিয়ে হয় খিচা গ্রামের হামিদুলের সাথে। তাঁদের সংসারে ৬ মাস বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় কথা ছিল সাজেদার বাবা তাঁর মেয়ের জামাতা হামিদুলকে দেড় লাখ টাকা যৌতুক দিবেন। কিন্তু অভাবের সংসারে সাজেদার বাবা যৌতুকের এক লাখ টাকা মেটাতে পারলেও বাকি টাকার জন্য সাজেদার উপর শুরু হয় স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে সাজেদা মাস তিনেক আগে তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়।
৫ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে সাজেদার শ্বশুর জমির সাজেদাদের বাড়িতে গিয়ে সাজেদার বাবা সাজুকে যৌতুকের বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ দেয়। পরে যৌতুকের টাকা খুব তাড়াতাড়ি পরিশোধ করে দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে জমির পুত্রবধূ সাজেদাকে সন্ধায় বাড়িতে নিয়ে যায়।
৬ জানুয়ারি শনিবার সকালে সাজেদার শ্বশুর বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে সাজেদার বাবাকে সাজেদার মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়।
নকলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসিবুল হাসান জানান খবর পেয়ে সাজেদার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাজেদার স্বামী হামিদুল, শ্বশুর জমির এবং শ্বাশুড়ি হামিদাকে আটক করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট করার সময় সাজেদার মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।








