বিজ্ঞ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও সরকার সরকারি রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ায় ঝিকরগাছার এসিল্যান্ড ও নায়েবের বিরুদ্ধে ইউএনও’র নিকট অভিযোগ

শাহাবুদ্দিন মোড়ল, ঝিকরগাছা : বিজ্ঞ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গলী ও সরকার সরকারি রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ায় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) ও শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) এর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক বিচারের দাবী জানিয়ে ইউএনও’র নিকট অভিযোগ দিয়েছেন শহিদুল ইসলাম পল্লব নামের এক ব্যক্তি। তিনি উত্তর রাজাপুর গ্রামের মোঃ সোহরাব হোসেনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞ আদালতকে অবমাননা করে সর্বশান্ত ও সরকারি রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করছি যে, উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ১৭নং উত্তর রাজাপুর মৌজার পৈত্রিক জমি ৭.৮০একর সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের বিজ্ঞ আদালতের রায়, ডিক্রি ও বর্তমানে চিরোস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে এবং পাশে সরকারের ১০.৪৫ একর জমি রয়েছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগকারী জানতে পান সহকারী কমিশনার (ভূমি), ঝিকরগাছা, শিমুলিয়া ইউনিয়নের নায়েব, ঝিকরগাছা এর সাথে স্থানীয় প্রায় ১০/১৫জন আলাপ-আলোচনার করে ৩ দফার শেষ পর্যায়ে গত ১৯/০৫/২০২৫ইং তারিখ সকাল অনুঃ ৭ঘটিকার সময় আবেদনকারীর পুকুর ও সরকারি জমি থেকে অনুঃ প্রায় ২০লক্ষ টাকার মাছ লুটপাট করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার নিকট দ্রুত তদন্ত পূর্বক বিবাদীগণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম পল্লব।
এছাড়াও ঘটনার বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ১৭নং উত্তর রাজাপুর মৌজার পৈত্রিক জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বশান্ত অসহায় পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ০২/০৪/২০২৪, ১৭/০৯/২০২৪, ০১/১০/২০২৪, ১৪/১০/২০২৪, ২৯/১০/২০২৪ইং সহ আরও অনেক তারিখ অনুযায়ী সহযোগিতা চেয়েও আইনগত ভাবে কোন প্রকার সহযোগিতা পায়নি মোঃ সোহরাব হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম পল্লব ও সংবাদের তথ্য অনুসন্ধানে সংবাদকর্মীরা মাঠে নামলেও তথ্য দিতে ব্যর্থ উপজেলা প্রশাসন। উক্ত বিষয় নিয়ে কোন স্বার্থে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে এটা নিয়ে জনসধারণের মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেখা গেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিলেও তিনি কোন অদৃশ্য ক্ষমতার নিকট জিম্মি। ঘটনার বিষয়ে শহিদুল ইসলাম পল্লব যত বার অভিযোগে দায়ের করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দপ্তরে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় অসহায় পরিবারের উপর অমানষিক নির্যাতন। তার ধারাবাহিকতায় গত ফেব্রুয়ারী মাসে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দ্বারা শহিদুল ইসলাম পল্লবের বাড়ির উপর গিয়ে তার পিতা মোঃ সোহরাব হোসেনকে তুলে নিয়ে এসে হুমকি-ধামকি ও মারার জন্য ক্ষিপ্ত হয়। তাৎক্ষনিক বিষয়টা সংবাদকর্মীদের নিকট আসলে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাটি শান্ত করার জন্য কঠোর ভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশনা দেন। এই বিষয়ে তাৎক্ষনিক সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নিকট যোগাযোগ করে ঘটনাটি শান্ত করেন। একই মাসে অসহায় পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তির পুকুর হতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দ্বারা শিমুলিয়া ইউনিয়নের নায়েবকেও হুমকি-ধামকি দেন এবং তাৎক্ষনিক বিষয়েরর উপর একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর উক্ত ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থার গ্রহণের জন্য শরণাপন্ন হয়নি। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেটা এখন ধামাচাপা পড়ে গেছে। পূর্বেও এই জমির বিষয়ে দপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন সময় নাটকীয় কার্যক্রম পরিচালানা করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুর রহমান বাটুল গং কে দিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছেন সরকারি দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তারা। এরপরও বর্তমানে ১৯ মে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতাধরী আর একপক্ষদের দ্বারা পুনরায় পুকুর থেকে শেষ সম্বল টুকুও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে দেওয়া ইউঃ ভূঃ অঃ শিমু-২০২৫, ১৫৫/ভূমি, ১১/০৩/২০২৫ইং তারিখের প্রতিবেদনে রায়, ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার মামলার বিষয়ে তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি পর্যাবেক্ষণে নিয়ে তামাদি মওকুফ করতঃ সরকার পক্ষের অপিল গ্রহণ করেছেন মর্মে বিজ্ঞ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়েছেন শিমুলিয়া ইউনিয়নের নায়েব আবুল খায়ের। তার মনউক্তি প্রতিবেদনের কারণে একটি অসহায় পরিবার সর্বশান্ত ও সরকার হারালো সরকারি রাজস্ব।
উল্লেখ্য, ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট সংবাদকর্মীরা তথ্য অধিকার আইনে তথ্যের জন্য আবেদন করলে নিধারিত সময়ের পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তথ্য দেওয়ার জন্য একাধিকবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে লিখিত ভাবে বিভিন্ন স্মারকে অবগত করলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার নিদের্শকে আমলে নেন না। এই বিষয়ে প্রায় তিন মাস পরে তিনি সংবাদকর্মীদের জানান উক্ত ঘটনার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে ২৬/২০২৪ ও ৯৯/২০২৪নং মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু মামলার কাগজপত্র পযালোচনা করে দেখা যায় উক্ত মামলার বিষয়ে ৪৯৩ দিনের তামাদি হয়েছে এবং আগামী ১৬/০৬/২০২৫ইং তারিখে মামলা গ্রহণের উপর শুনানি রয়েছে। কিন্তু অপর দিকে শিমুলিয়া ইউনিয়নের নায়েব বিজ্ঞ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতকে অসম্মান করে রায়, ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার মামলার বিষয়ে তিনি মনগড়া প্রতিবেদনে দাখিল করছেন। আর এই প্রতিবেদনকে স্থানীয়রা আমলে নিয়ে উক্ত জমি থেকে মাছ লুট করে তাদেরকে ও সরকারকে সরকারি রাজস্ব থেকে বঞ্চিতের মাধ্যমে সর্বশান্ত করেছে বলে দাবী শহিদুল ইসলাম পল্লব।
ক্ষতিগ্রস্থ শহিদুল ইসলাম পল্লব বলেন, শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এলাকার পাতিনেতা আব্দুর বারিক গং আমার বাড়ির উপর গিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আমার পিতাকে তুলে নিয়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি ধামকি প্রদান করেন।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আবুল খায়ের বলেন

On Thu, 6 Feb, 2025, 3:12 pm Md Shahab Uddin, wrote:

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে মাটি কেটে টাকার পাহাড় গড়ছেন মাটিখেকোর দল

শাহাবুদ্দিন মোড়ল : যশোরের ঝিকরগাছায় অদৃশ্য ক্ষমতার দাপট এবং বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জমি খেকো বা ভূমিদস্যু এক চক্র। কোন প্রকার সরকারি অনুমোদন বা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলী জমি, বিল থেকে হাজার হাজার ট্রাক মাটি কেটে এলাকায় বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতিনিয়ত মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে নষ্ট হতে বসেছে কাঁচা পাঁকা সড়ক, জনসাধারণের যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এসকল সড়ক, প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি।

অভিযোগ উঠেছে অবৈধভাবে এ সকল জমি থেকে মাটি কেটে কোটি টাকার পাহাড় গড়ছেন এই চক্র। উপজেলা প্রশাসন থেকে অবৈধ ইটভাটা, মাটি ও বালু উত্তোলনে অভিযান পরিচালনা করলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হায়দার চক্রের প্রধান হায়দার (২৮) সহ আরও কয়েকজন মিলে মাটির রমরমা ব্যবসা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দেরও হুমকি ধামকি এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দমিয়ে রাখেন তারা। ফলে ভয়ে মুখ খুলতে চাননা এলাকাবাসীও।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ বছর যাবৎ মাটি কেটে বিক্রি করেন ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের নোয়ালি গ্রামের হায়দার। ফসলী জমি ও পুকুর খননের নামে মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করেন তিনি। কৃষকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ও মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করে স্বার্থ হাসিল করেন। শুধু হায়দার নন তার সাথে জড়িত আরও কয়েকজন, মাশোহারা দেন বিভিন্ন মহলকে। এই চক্রে আরও আছে হাজিরালি মহিলা কলেজ মোড়ের সাহেব আলী, ঝিকরগাছা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইউনুস আলী, পানিসারা ইউনিয়নের কাউরিয়া ঢালিপাড়ার তরিকুল ঢালি, তুহিন হোসেন, আবু সাঈদ, শিমুলিয়া ইউনিয়নের মধুখালি গ্রামের সুনীল ঘোষ, বাঁকড়া অঞ্চলের রাজ্জাক বিশ্বাস, ইয়াকুব, আজিজ শানা, শফি মেম্বার, সুমন, মিন্টু সহ আরও কয়েকজন। এরা সবাই মিলে সমগ্র ঝিকরগাছা উপজেলা ব্যাপী তৈরি করেছে “হায়দার চক্র”। আতঙ্কের নাম হায়দার চক্রটি বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকাগুলো থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু বিক্রির কাজ করে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, হায়দারকে কেউ কিছু বলতে পারে না। স্থানীয় বা প্রশাসনের কেউ কিছু বলতে আসলে স্থানীয় সংবাদিক বা প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের আত্মীয় পরিচয় দেন তিনি। কি এমন অদৃশ্য ক্ষমতা আছে তার যার জোরে তিনি প্রশাসনের চোখের সামনে এ অবৈধ ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী হায়দার আলী বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর যাবৎ মাটি ব্যবসা করি না। একবছর এই ব্যবসা করি। আমি আর সাইদ এক সাথেই মিলে ব্যবসা করি।’

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘হায়দার সহ সকলের বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আমার কথা হয়েছে। সংবাদিক ও স্থানীয়দের সহযোগীতার জন্য বলেছি। আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

  • অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সংবাদ

    মণিরামপুরে মহউৎসবে মেতেছে মাটি খাদকরা!

    ‎ ‎এস এম মামুন , যশোর দেশব্যাপী মফস্বল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বত্র পর্যায়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দৌরাত্বের প্রভাবে ঘটে চলেছে সামাজিক অবক্ষয়। অন্তবর্তী সরকারের চলমান সময়ে উপজেলা…

    যশোরে শীতের তীব্রতা চরমে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি

    এস এম মামুন, যশোর যশোরে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও…