চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহা. জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে, তাঁর স্ত্রী মোসা. কাশমেরী বেগমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকায়, তাঁকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার (২৪ জুন) দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ:
দুদক সূত্র জানিয়েছে, মুহা. জিয়াউর রহমান সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে মোট ১ কোটি ৮ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎস দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
তাঁর এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে মোট ১০ কোটি ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ টাকার লেনদেন। এর মধ্যে:
-
জমা হয়েছে: ৫ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৪ টাকা
-
উত্তোলন করা হয়েছে: ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩২০ টাকা
এই লেনদেনগুলোর অনেক অংশই সন্দেহজনক বলে বিবেচনা করছে দুদক।
স্ত্রী কাশমেরী বেগমের সম্পদের অনুসন্ধান:
দুদকের তথ্যমতে, মোসা. কাশমেরী বেগমের বিরুদ্ধেও ৫২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁর নামে ও বেনামে আরও অপ্রকাশিত সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, দুদক আইন অনুযায়ী কাশমেরী বেগমকে স্বনামে ও বেনামে অর্জিত সব সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ মামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রদর্শন।







