ত্যাগে গড়া নেতৃত্বের জীবন্ত উদাহরণ সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এক জীবন্ত রাজনৈতিক ইতিহাস, এক অনন্য অনুপ্রেরণা

ত্যাগে গড়া নেতৃত্বের প্রতীক: সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী

জাতীয়তাবাদের দীপ্ত আলো, ত্যাগের ভিত্তিতে গড়া নেতৃত্বের জীবন্ত প্রতীক—সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি কুষ্টিয়ার ইতিহাস ও আত্মার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর জীবন, আদর্শ ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে আদর্শিক রাজনীতির এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

শেকড়ের শক্তি: জন্ম ও পারিবারিক উত্তরাধিকার

১৯৫২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তাঁর পিতা, মরহুম অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী ছিলেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম পুরোধা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। পরিবার থেকেই রুমী সাহেব পেয়েছেন আদর্শিক উত্তরাধিকার, দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির শুরু

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে মাতৃভূমির জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষে জাতীয় পুনর্গঠনে তিনি রাজনীতিকেই বেছে নেন তার কর্মভূমি হিসেবে।

১৯৭৮ সালে যুবদল গঠনের সময় শহীদ জিয়া নিজেই তাঁকে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার দায়িত্ব দেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁকে এক বিশ্বস্ত নেতৃত্বে রূপান্তর করে।

সংসদ সদস্য থেকে অভিভাবকত্ব

১৯৭৯ সালে কুমারখালী-খোকসা আসন থেকে জাতীয় সংসদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি ভেঙে দেন আওয়ামী প্রভাবিত রাজনৈতিক ঘাঁটি। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের রূপকার, কর্মীদের আশ্রয়

১৯৯৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে তিনি টানা নেতৃত্ব দিয়েছেন। দমন-পীড়নের ভয়াবহ সময়ে তিনি ছিলেন কর্মীদের আত্মবিশ্বাস, সংগঠনের চালক ও আন্দোলনের সাহসী মুখ।

তিনি কখনো শুধুমাত্র পদ-পদবির মোহে রাজনীতি করেননি। বরং ছিলেন একজন আদর্শবান, দায়িত্বশীল, নির্লোভ ও মানবিক নেতা।

একজন মানবিক নেতা, যিনি সম্পর্ককে বড় করে দেখেন

রুমী সাহেব রাজনীতিকে দেখেছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে। কারও চিকিৎসা, আইনি সহায়তা বা শিক্ষার জন্য তিনি অকাতরে সহায়তা করেছেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে তাঁর নামে নেই কোনো ফ্ল্যাট, জমি বা বাড়ি।

তিনি ছিলেন সম্পর্কনির্ভর রাজনীতির ধারক, যিনি বিশ্বাস করতেন “নেতৃত্ব মানেই দায়িত্ব”।

উন্নয়নের রূপকার, ঐতিহ্যের ধারক

কুষ্টিয়ার রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, সেতু ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পেছনে রয়েছে তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও বাস্তব নেতৃত্ব। বিশেষভাবে ‘সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতু’ তাঁর পরিবার ও রাজনীতিক উত্তরাধিকারের এক গৌরবময় নিদর্শন।

তিনি চান কুমারখালী-খোকসায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক তাঁত শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, এবং ইতিহাস-সংস্কৃতির আন্তর্জাতিকীকরণ।

এক অনন্য নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত

৭৩ বছর বয়সেও তিনি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে সময় দেন। ইউনিয়নভিত্তিক সফরে কর্মীদের খোঁজখবর নেন, মানুষের সমস্যার সমাধান করেন। রাজনীতির প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, শ্রদ্ধা ও প্রভাব আজও অটুট।

তিনি আজ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, এবং দেশের রাজনীতিতে এক পরীক্ষিত ও আদর্শনিষ্ঠ অভিভাবক।

ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় রুমী সাহেব

কুষ্টিয়া ও খোকসা-কুমারখালি যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে বাঙালির ইতিহাসের অন্যতম কেন্দ্র, সেই জায়গাটিকেই তিনি মানবিক নেতৃত্ব দিয়ে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ, কাঙাল হরিনাথ, মীর মশাররফ হোসেন, আবরার ফাহাদের মতো প্রতীকী নামগুলোর স্মৃতিকে ধারণ করে, রুমী সাহেব গড়ে তুলতে চান এক মানবিক, ঐতিহ্যবাহী, উন্নত অঞ্চল।

উপসংহার: একজন আদর্শ রাজনীতিবিদের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি

সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী আজ কেবল একজন নেতা নন—তিনি সংগঠনের অভিভাবক, কর্মীদের আশ্রয়স্থল, রাজনীতির একজন নিঃস্বার্থ, সাহসী ও দূরদর্শী পথপ্রদর্শক।

তিনি প্রমাণ করেছেন—আদর্শ, ত্যাগ ও মানবিকতাই রাজনীতির প্রকৃত শক্তি।

আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও রাজনীতিতে আরও সাফল্য কামনা করি। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী সাহেব—আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। কুমারখালী-খোকসার মানুষের হৃদয়ে, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির রক্তকণিকায়।

অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনায় দু’ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত

ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মিলন (৬০) ও আলম (৪৫) নামে দু’ভাই নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত দশ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাচোল থানা…

খুলনার দাকোপে মৎস্য চাষিদের সচেতনতায় প্রচারাভিযান সভা

মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা খুলনার দাকোপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমনে মৎস্যজীবি ও মৎস্য চাষিদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রচারাভিযান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। “জলবায়ু সহনশীল মাছ চাষে জীবন জীবিকায় সমৃদ্ধি আসে” এই শ্লোগানে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় দাকোপের বারুইখালী এলাকায় খোনা খাটাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে সভাটি অনুষ্ঠিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *