গণতন্ত্রবিরোধী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতার গড়ে ওঠা গণপ্রতিরোধকে ‘মব’ (জনতা/বিক্ষুব্ধ দল) বলে আখ্যা দেওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—এমন মন্তব্য করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই মন্তব্য করে। বিবৃতিটি পাঠান হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“জুলাইর ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবী ছাত্র-জনতার সম্মতির ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে একটি গণঅভ্যুত্থানের সরকার গঠিত হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা। তবে যেখানে সরকার ও প্রশাসন ব্যর্থ, সেখানেই এগিয়ে আসছে জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতা।”
মাওলানা আজিজুল হক আরও বলেন,
“যারা আজ ছাত্র-জনতার ন্যায্য প্রতিরোধকে ‘মব’ আখ্যা দিচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদের মুখোশধারী দোসর। ছাত্রদের এই ঐতিহাসিক ভূমিকার অবমূল্যায়ন করার পেছনে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র রয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে হেফাজতের অবস্থান
হেফাজত নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, এই গণপ্রতিরোধ ও আন্দোলনের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর আন্দোলনে এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী গণপ্রতিরোধে। সেই আন্দোলনে আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
তিনি বলেন,
“২০১৩ ও ২০২১ সালের মতোই ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে আবারও তৌহিদি জনতা ও সাধারণ মানুষ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয় এবং একটি অবৈধ ও দমনমূলক সরকারের পতন ঘটায়। তবে, আমরা মনে করি, সেই গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও ‘জুলাই বিপ্লব’ এখনো পূর্ণতা পায়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত এই দেশে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিপ্লবী ছাত্র-জনতার গণপ্রতিরোধ জারি থাকবে।”
তিনি ছাত্র সমাজ ও সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান,
“সব বিভাজন ও মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতে নব্য ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তখন ঐক্যের অভাব থাকলে তারা সহজেই আমাদের স্বপ্ন ও অর্জন ধ্বংস করে দিতে পারবে।”
উপসংহার
হেফাজতের এই বিবৃতি এমন এক সময় এলো, যখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সরকার গঠনের পরেও গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও বিচারহীনতার বিষয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ভূমিকাকে সম্মান জানানোর দাবি জানায়।








