ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মনিরুল মাওলা গ্রেপ্তার: দুদকের দুর্নীতির মামলায় অভিযান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুল মাওলাকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল রোববার (২৩ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

ডিবি দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় মনিরুল মাওলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে হাজির করা হবে।

ইসলামী ব্যাংক দখল ও অর্থ অপসারণ: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মনিরুল মাওলা

২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ গোপনে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল মনিরুল মাওলাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। তিনি তখন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে নানা কৌশলে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এ সময়কালে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ ও অর্থ অপসারণের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্বে ছিলেন মনিরুল মাওলা। জানা যায়, বসুন্ধরা এলাকায় এস আলম পরিবারের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ, যা ব্যাংকটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁকে নিয়ে আসতে সহায়তা করে।

সরকার পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ সংকট

২০২4 সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা শুরু হয়। ব্যাংকের পর্ষদের অধিকাংশ পরিচালক ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আত্মগোপনে চলে যান। তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের মালিকের ছেলে আহসানুল আলম। এই সংকটকালেও মনিরুল মাওলা এমডি হিসেবে বহাল থাকেন।

তবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চাপে এবং কর্মীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় পরিচালনা পর্ষদ শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

দুর্নীতির মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

দুদক-এর দায়ের করা মামলাটি মূলত ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এই মামলায় মনিরুল মাওলার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ধারায় মামলাটি সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মনিরুল মাওলার গ্রেপ্তার দেশের ব্যাংক খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও বিতর্কের পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সংবাদ

মণিরামপুরে মহউৎসবে মেতেছে মাটি খাদকরা!

‎ ‎এস এম মামুন , যশোর দেশব্যাপী মফস্বল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বত্র পর্যায়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দৌরাত্বের প্রভাবে ঘটে চলেছে সামাজিক অবক্ষয়। অন্তবর্তী সরকারের চলমান সময়ে উপজেলা…

বরিশালে খাল দখল করে আ’লীগ নেতা নান্নুর ভবন নির্মাণ, পানিপ্রবাহ বিঘ্ন

রমজান আহম্মেদ (রঞ্জু), বরিশাল প্রতিনিধি। আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৬ বছরে বরিশালে অসংখ্য জনগুরুত্বপূর্ণ খালসহ বিভিন্ন জলাশয় দখল হয়ে যায়। বিশেষ করে সামাজিক এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেও খাল দখল…