আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন দিতে হবে: কুড়িগ্রামে রিজভী
রাকিবুল হাসান, কুড়িগ্রাম।।
“জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে আগামী রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে,” — এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১টায় কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে “আমরা বিএনপি পরিবারে”র পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২০০৬-০৮ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনে শহীদ ১০টি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সরকার ও বিরোধী দলের ওপর সরব সমালোচনা

রিজভী বলেন, “জিয়াউর রহমানের অনুকম্পায় দু’একটি ইসলামী দল রাজনীতির সুযোগ পেয়েছে। অথচ এখন বিএনপি ও তারেক রহমানকে টার্গেট করা হচ্ছে। বুক-পিঠ বলে আপনাদের কিছু নেই।”
তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান মারা গেলে এরশাদ বন্দুকের নল দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করেন। তখন বলা হয়েছিল কেউ এরশাদের সঙ্গে যাবে না, অথচ আপনারাই পরে তার সঙ্গে গিয়েছেন—শেখ হাসিনার সঙ্গে। আপনারা সবসময় সুবিধা আর ধান্দা খুঁজে বেড়ান, কিন্তু বিএনপি যায়নি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও যাননি। তিনি আজও জনগণের দেওয়া ওয়াদায় অটল।”
তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান
তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, “আপনারা যদি অপপ্রচারে নামেন, তাহলে আপনাদের ওপরই এর ফল ভোগ করতে হবে। সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শুধু দল থেকে বহিষ্কার নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।”
ড. ইউনুসকে সমর্থনের ব্যাখ্যা
রিজভী বলেন, “ড. ইউনুস সরকারকে আমরা সমর্থন জানিয়েছি। কারণ, তারা শেখ হাসিনার সরকারের মতো বিদেশে অর্থ পাচার করবে না। তারা জনগণের মতামত ও রায় বুঝে চলে।” তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে ১৬ বছর ধরে বিএনপি লড়াই করে যাচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি প্রশ্নবিদ্ধ
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন নিয়ে এত গড়িমসি কেন? ভোটাররা ১৬ বছর ধরে ভোট দিতে পারেনি। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। তাই আগামী রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, জেলা সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, সাইফুর রহমান রানা প্রমুখ।








